কাদের মির্জাকে প্রতিহতের ঘোষণা

নোয়াখালী বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে তার নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকির প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছে।
 
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ ঘটিকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ছাত্র নেতা ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে মাহবুবর রশিদ মঞ্জুর বসুরহাটের বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। পুলিশি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনটি নেতারা সংক্ষিপ্ত করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা কোম্পানীগঞ্জে অপরাজনীতির হোতা মেয়র আবদুল কাদের মির্জা শুক্রবার লাইভে এসে জননেতা ওবায়দুল কাদেরকে তার নির্বাচনী এলাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না বলে যে হুমকি দিয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের এখানকার সংসদ সদস্য। তাকে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়া হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ অপরাজনীতির হোতা আবদুল কাদের মির্জাকে দলীয়ভাবে প্রতিহত করা হবে। গত ৪ মাস যাবত কাদের মির্জার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অশোভন আচরণে এখানকার রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। 

শুক্রবার রাতেও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে বোমা হামলার মিথ্যা নাটক ও গুজব ছড়িয়েছে মেয়র কাদের মির্জার অনুসারীরা। তার ছোটভাই শাহাদাত হোসেন ও তার ছেলে তাশিক মির্জার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ড্রিমলাইন পরিবহনের অফিসে হামলা ও তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি ভাংচুর করে। 

গত বৃহস্পতিবার মেয়র কাদের মির্জা তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছিলেন- বায়তুল মোকাররম মসজিদ জুমার দিনে বোমা মেরে উড়িয়ে দিলে দেশে দুর্নীতি অর্ধেক কমে যাবে। এধরনের বেসামাল আচরণ করে তিনি দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। অনতিবিলম্বে পাগল কাদের মির্জাকে গ্রেফতার করে পাগলা গারদে প্রেরণের দাবি জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।  

উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পৌর ভবনের ভেতরে বাংকার করে অস্ত্রশস্ত্রসহ কয়েক সন্ত্রাসী সেখানে রেখে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননমূলক কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুক লাইভে প্রকাশ করে যাচ্ছে। পৌর ভবনের ভেতর থেকে সকল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন নেতারা। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেতুমন্ত্রীর ভাগ্নে মাহবুবর রশিদ মঞ্জু। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরনবী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য ও আন্তজেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আক্রম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, সেতুমন্ত্রীর ভাগ্নে স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাতসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।