খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করলেন ইমরান সরকার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  
রোববার আইসিডিডিআরবির রিপোর্টে তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে।

খালেদা জিয়ার করোনা ধরা পড়ার খবর জানাজানি হলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সূত্রপাত হয়। অনেকে ৭৫ বছর বয়স্ক এই নেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তার চিকিৎসা কোথায় হবে সেটি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

তবে অন্যান্য রাজনীতিকের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।  রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন ইমরান। খালেদা জিয়ার ছবি শেয়ার করে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে ইমরান সরকার লেখেন— ‘খবরে দেখলাম বেগম খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত। আমাদের দেশে একটা নোংরা রাজনীতি আছে, ভিন্নমতের কেউ আক্রান্ত হলে এমনকি মৃত্যুবরণ করলেও অনেকে ট্রল করেন। এটি খুবই অসভ্য মানসিকতা। বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হোন— এটিই কাম্য।’ 

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ইমরান সরকারের দেওয়া পোস্ট ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।  বেলা ৩টা পর্যন্ত ১২ হাজার মানুষ এটি লাইক দিয়েছেন।  প্রায় এক হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।  

প্রসঙ্গত, রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামও যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত।

তবে খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তার পরিবার জানে না। 
বিএনপি চেয়ারপারসনের ভাগ্নে ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। 

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে শনিবার বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় নমুনা দেন খালেদা জিয়া।
তবে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন রহমান দাবি করেন— করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়ার নমুনাই নেওয়া হয়নি।

শনিবার বিকালে ডা. মামুন বেসরকারি হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্ট নিয়ে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসায় গেলে খবর ছড়িয়েছিল যে তিনি পরীক্ষা করাচ্ছেন।

তবে পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দেননি খালেদা জিয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন ডা. মামুন।

৭৫ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।

তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগও সীমিত।